Posts

চাকরি যখন মানসিক ক্ষতির কারণ

Image
স্বপ্নীল মাহফুজ : আপনার চাকরি হয়তো আপনাকে বেতন দিচ্ছে। কিন্তু এই কাজ যদি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয় তবে তা ছেড়ে দেওয়ার সময় এসে গেছে। সেন্ট্রাল ল্যাঙ্কাশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র মনোবিজ্ঞান প্রভাষক ড. স্যান্ডি মান এমন কিছু লক্ষণের কথা জানিয়েছেন যেগুলো আপনার মধ্যে দেখা দিলে বুঝবেন যে, চাকরি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যা আপনাকে দুশ্চিন্তা ও বিষন্নতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। জেনে নিন কোন কোন মানসিক লক্ষণ দেখা দিলে বুঝবেন যে, চাকরিটি আপনার জন্য উপযুক্ত নয়। *  নিয়মিত ঘুম না হওয়া :  যদি আপনার নিদ্রাভঙ্গ কিংবা ঠিকমতো ঘুম না হয়, তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে আপনার মানসিক চাপ বাড়ছে। *  কাজে ভুল করা :  অসাবধানতা কিংবা সাধারণ সব ভুল করে চলাও কিন্তু লক্ষণ যে, আপনার মানসিক অবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। *  খুব দ্রুত রেগে যাওয়া :  তীব্র মানসিক চাপ থেকে এমনটা হতে পারে। হয়তো খুব সাধারণ বিষয় নিয়েই আপনি খুব বেশি রিয়াক্ট করে ফেলছেন। এবং আপনার ধৈর্যচ্যুতি ঘটছে। *  কাজে মনোযোগ দিতে না পারা :  কাজ নিয়ে ভীতিকর অনুভূতি তৈরি হলে...

মানসিক ব্যাধি থেকে ৭ ব্যথা

Image
ইয়ামিন (আরচুভ) :  দুই ভাবে ব্যথার উৎপত্তি হতে পারে। ১. দেহ সমস্যাগ্রস্ত হওয়ায় ব্যথা অনুভূত হয়। ২. সমস্যা রোধের সময় ব্যথা অনুভূত হয়। অর্থাৎ দেহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেতর থেকে যখন ক্ষত রোধের প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে তখনও দেহে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। ব্যথা প্রত্যেক মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বাভাবিকভাবে কেটে যাওয়া বা আঘাত থেকে দেহে ব্যথা সৃষ্টি হয়। তবে মানসিক কারণেও যে দেহে সাধারণ কিছু ব্যথা এবং যন্ত্রণার উৎপত্তি হতে পারে তা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। যা হোক, সব ব্যথার কারণ দেহের ক্ষত বা আঘাত নয়, কিছু ব্যথা এবং যন্ত্রণার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের আবেগ এবং মানসিক চাপ  জড়িত। এই মানসিক যন্ত্রণা ধীরে ধীরে আমাদের দেহকে খারাপ থেকে আরো খারাপ অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। সুতরাং মানসিক চাপ এবং অবসাদকে হেয়ালি না করে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। এ প্রতিবেদনে ৭ ধরনের ব্যথা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেগুলো সরাসরি আবেগ এবং মানসিক সমস্যার সঙ্গে জড়িত। পিঠে ব্যথা ব্যাক পেইন বা পিঠে ব্যথা অতি পরিচিত একটি ব্যথা। কখনো কখনো একাকীত্ব, সন্দেহবাতীক এবং কোনো কিছুই ভালো না লাগা- এসব কারণেও ব্যাক পেইন হতে পারে। এক...

মানসিক স্বাস্থ্য উন্নতির জন্য ১০ অভ্যাস

Image
রাসেল কবির : আমরা প্রায়ই শারীরিক স্বাস্থ্যের তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করি। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে আপনি প্রতিদিনের কাজকর্ম ভালোভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম হবেন। আর হঠাৎ কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও আপনি ভড়কে যা বেন না। মনোবিদদের মতে, নিচের কিছু অভ্যাস প্রাত্যহিক মেনে চললে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে। * অভীষ্ট লক্ষে জেগে উঠুন :  দৈনন্দিন একটি রুটিন তৈরি করে সে অনুযায়ী জীবনযাপন করুন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত রুটিন মেনে চলুন। সবচেয়ে ভালো উপায়, আপনার প্রতিদিনের লক্ষ্য এবং সে অনুযায়ী কর্মপন্থার ওপর একটি ইতিবাচক নোট নিবন্ধ করে দিন শুরু করুন। যখন আপনি আপনার তালিকাবদ্ধ প্রতিটি কাজ শেষ করবেন তখন আপনি সফল এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ বোধ করবেন। যারা নিয়মিত রুটিন অনুসরণ করে জীবনযাপন করেন তাদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য দুটোই ভালো থাকে। * ব্যায়াম করুন :  নিয়মিত ব্যায়াম করলে সব ধরনের রোগ-বালাই থেকেই মুক্ত থাকা যায়। গবেষকদের মতে, শারীরিক ব্যায়াম আমাদের মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন নামক হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়, যা আমাদের ভালোলাগার অনু...

মানসিক রোগ সম্পর্কে ১০ ভুল ধারণা

Image
এস এম গল্প ইকবাল :  মা নসিক রোগকে অনেকে ‘এটা তার মস্তিষ্কের শয়তানি’ বলে চূড়ান্ত রায় দিয়ে দেন, তারা এটাকে ব্যাধি হিসেবে স্বীকারই করতে চান না। কিন্তু মানসিক অসুস্থতা আসলেই ব্যাধি এবং এটি সম্পর্কে অনেকেরই ভুল ধারণা আছে, যা মানসিক রোগীর জীবনকে আরো বিপর্যস্ত করতে পারে। এ প্রতিবেদনে মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে ১০টি ভুল ধারণা দেওয়া হলো। * ভুল ধারণা: মানসিক অসুস্থতা বাস্তব না যেহেতু মানসিক অসুস্থতার ক্ষতি বাইরে থেকে দেখা যায় না, তাই অনেক লোক মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এটি শুধুমাত্র ভুল ধারণা নয়, এটি প্রকৃতপক্ষে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা লোকদের জন্য অপমানকর ও অমর্যাদাপূর্ণ, বলেন মেন্টাল হেলথ আমেরিকার মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড সিস্টেমস অ্যাডভোকেসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেবি প্লটনিক। মানসিক অসুস্থতাও প্রকৃত অসুস্থতা যা গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত এবং এ ব্যাধির যৌক্তিকতা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশের মানে হচ্ছে এ সমস্যায় ভোগা লোকেরা অভিনয় করছে বা ভান করছে জাতীয় কিছু বোঝানো, যা মানসিক রোগীকে আরো বেশি লজ্জিত করে এবং তারা তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পাওয়া থেকে দূরে থাকে। * ভুল...

আপনিও মানসিক রোগে ভুগতে পারেন! জেনে রাখুন কিছু বিষয়

Image
‘মনও অসুস্থ হতে পারে’-এক সময় এটা মানুষের ধারনার বাইরে ছিল। মানুষ এখন মনের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে। মন যে কোন কারণে অসুস্থ হতে পারে মানুষ তা এখন স্বীকার করছে। এর পুরোটাই সম্ভব হয়েছে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানসিক রোগ চিকিৎসার উন্নতির জন্য। অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতার মতোই মানসিক রোগ নির্নয় করা হয় উপসর্গ অনুযায়ী। তবে মানসিক রোগের উপসর্গসমূহ সমাজ,কাল,পাত্র ও পরিবেশ অনুযায়ী একেক দেশে একেক সময়ে একেক রকম হয়ে থাকে। শিক্ষার সাথেও এর সম্পর্ক রয়েছে। শিক্ষিত সমাজে এই রোগের উপসর্গগুলো হয় খুবই সুক্ষ্ম। অল্পশিক্ষিত ও অশিক্ষিত সমাজে উপসর্গগুলো হয় স্থুল। এই রোগ নির্নয় পুরোটাই ( শতকরা ৮০ ভাগ ) নির্ভর করে রোগীর আচরণগত অসামঞ্জস্যতা ওপর। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণেও এই সমস্যা -বেড়ে যেতে পারে। যেমন- শেয়ার মার্কেট পর কিছু মানুষের খুব বেশী মানসিক সমস্যা হতে দেখা গিয়েছে নিজেদের অর্থের জন্য। এছাড়া স্থান কাল ও পাত্রভেদে কিছু উপসর্গের মিল সচরাচর দেখা যায়। যেমন- অশান্তি লাগা, কাজে অনীহা, বুক ধড়ফড় করা, মাথাব্যথা করা, বুকে চাপবোধ করা, হঠাৎ খিঁচুনি, কিছু মনে করতে না পার, অল্পতেই বিরক্ত হওয়া, ঘুম না হওয়া, খাদ্যে অ...

হিস্টিরিয়া একটি মানসিক রোগ!

Image
হিস্টিরিয়া হচ্ছে এমন একটি মানসিক অবস্থা যেখানে ব্যক্তির মধ্যে দুর্দমনীয় ভয় ও অতিরিক্ত আবেগ লক্ষ্য করা যায়। যাদের হিস্টিরিয়া রয়েছে তারা সাধারণত কোনো না কোনো ফোবিয়ায় আক্রান্ত, অনিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপন ও মানসিক অবসাদগ্রস্ত থাকেন। নারী-পুরুষ উভয়েরই হিস্টিরিয়া হতে পারে। তবে ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে হরমোনাল ইমব্যালেন্স ও পিরিয়ডিক্যাল কারণে এর আধিক্য দেখা যায়। নিউরোসিস জাতীয় মানসিক রোগ। মানসিক রোগ দুই প্রকারের হয়ে থাকে। একটি মৃদুমাত্রায়- তাকে নিউরোসিস বলা হয়, অপরটি জটিল মাত্রায়Ñ একে সাইকোসিস বলা হয়। নিউরোসিস জাতীয় রোগগুলা যেমন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার, অবশেসন, হিস্টিরিয়া, ফোবিয়া ইত্যাদি। সাইকোসিস জাতীয় রোগগুলো যেমন বিষণ্নতা, ম্যানিয়া, সিজোফ্রেনিয়া ইত্যাদি। হিস্টিরিয়া একটি নিউরোসিস রোগ। এ রোগটি শারীরিক সমস্যা বা মানসিক সমস্যা নিয়ে প্রকাশ পেতে পারে। মনোসমীক্ষার মতামতই মোটামুটি বেশির ভাগ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মেনে নেন। মনোসমীক্ষার তথ্যানুযায়ী নিজের মনের অজান্তে অবদমিত মানসিক দ্বন্দ্ব থেকেই হিস্টিরিয়ার লক্ষণ সৃষ্টি হয়। সহজাত আচরণ বাইরের জগতে প্রকাশ হতে গেলেই রোগীর মনে দা...

প্রসঙ্গ মানসিক রোগ

Image
সাইকিয়াট্রি (Psychiatry) যার বাংলা অর্থ হল মনোরোগবিদ্যা- সে সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের ধারণা আসলে কি? সাইকিয়াট্রিস্ট (Psychiatrist) যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় মনোরোগ চিকিৎসক তাদের সম্পর্কেই বা মানুষের ধারণা কি? যদিও এ সম্পর্কে ধারণাগুলো অতীতের চেয়ে বর্তমানে অনেকাংশেই সহনীয় এবং কিছুটা হলেও পরিবর্তিত রূপে বিদ্যমান তথাপিও অধিকাংশ মানুষেরই ধারণা হল সাইকিয়াট্রি বা মানসিক রোগ মানেই হল পাগল এবং পাগলের চিকিৎসা এবং সাইকিয়াট্রিস্ট মানেই হল পাগলের চিকিৎসক। শুধু সাধারণ মানুষই নয় অনেক শিক্ষিত বিদগ্ধজন এমন কি অনেক চিকিৎসকেরও ধারণা তাই। কিন্তু সত্যিই কি ব্যাপারটা এমন? না, মোটেই তা নয়। মন এবং শরীর এই দু’য়ে মিলে হচ্ছে পরিপূর্ণ মানুষ। শরীরের অস্তিত্ববিহীন যেমন মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না, তেমনি মন ছাড়া মানুষও কল্পনা করা যায় না। ভেবে দেখুন তো মনবিহীন মানুষ কি কখনও সম্ভব। কাজেই আপনি যদি মানুষের অস্তিত্ব স্বীকার করেন তবে মনের অস্তিত্বও আপনাকে পুরোপুরি মেনে নিতে হবে। প্রশ্ন করতে পারেন, মন আদৌ অস্তিত্বশীল কি-না? মনকে ধরা যায় কি-না? মনকে অবশ্যই ধরা যায়। এ ‘ধরা’ শরীরকে স্পর্শ করার মতো...